বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন
যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ জ্বালানি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ ল্যাবরেটরি। বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি) এবং বুয়েটের যৌথভাবে পরিচালিত ল্যাবটিতে যে কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গবেষণার সুযোগ উন্মুক্ত থাকছে।
এখন স্বল্প পরিসরে চালু হলেও ভবিষ্যতে আকার ও পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিইপিআরসি ও বুয়েটের পক্ষ থেকে।রোববার (৪ অক্টোবর) বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ল্যাবরেটরি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, আমরা মেধাবীদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে খুবই আনন্দিত। আজকের দিনটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, ল্যাবটি শুধু যেনো পাবলিকেশনে সীমাবদ্ধ না থাকে। আমরা যে কাজটি করছি সেটি পাবলিকের কিংবা রাস্ট্রের কোন উপকার হলো কিনা! যদি পাবলিকের কিংবা রাস্ট্রের কোন উপকার না হয়, তাহলে সেটি কাজ হলো না। আমরা যদি উপযোগিতা প্রমান করতে পারি তাহলে এর অর্থায়ন কোন সংকট হবে না। আমাদের দেশের অর্থনীতির যে আকার তাতে চার-পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা সরকারের পক্ষে খুব বেশি কঠিন হবে না। ল্যাবটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ৩-৫ বছর সময় লাগতে পারে। প্রয়োজনে ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকতে পারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা দেশের মেধাবী সন্তান, দেশকে কিছু দেওয়া আপনাদের দায়িত্ব। আপনারা গবেষণার মাধ্যমে দেশের কাজে এগিয়ে আসেন। অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেন, আপনারা শুধু প্রোডাক্ট চান, তাদের উদ্দেশ্যে বলি দেশের সমস্যার প্রয়োগিক সমাধান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জ্বালানি ব্যবহার দিয়ে একটি দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মাননির্ণয় করা হয়। থাইল্যান্ডের সমান হতে গেলেও ১ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগবে। আমাদের ২০ হাজার মেগাওয়াটে কত রকম সমস্যা, ১ লাখে যেতে গেলে কত রকম কাজ দরকার। অন্য দেশের ফর্মুলা কপি পেস্ট করে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়, আমাদের সমস্যার আমাদের মতো করে সমাধান বের করতে হবে।
তিনি কিছুটা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমাকে যদি আপনি জিজ্ঞেস করেন আমি বলবো কাজ করতে করতে মরে গেলাম। আবার যদি কোন কাজ অন্যকোন সংস্থাকে দেওয়ার প্রসঙ্গ আসে তখন যেভাবে হোক প্যাঁচ কষে আটকে রাখবো। বুয়েটের সঙ্গে করে দেশের উপযোগী করে থ্রি হুইলার মডেল তৈরি করা হলো। এটা কার দায়িত্ব সেটাই চিহ্নিত করতে পারলামনা এতোদিনে। ছোটবেলায় শুনেছিলাম হাকিম নড়ে, হুকুম নড়ে না, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে হাকিম অনেক বড় বিষয়।
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, সারাবিশ্বে গবেষণায় মূলত ইন্ডাস্ট্রি ফান্ডিং করে, বাংলাদেশে সেই সংস্কৃতি নেই। তবে আমাদের একটি গবেষণা ফান্ডিংয়ে ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে এসেছে। তারা ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহী রয়েছে, এটাও বড় অগ্রগতি। আমরা দু’টি পণ্যের প্যাটেন্টের আবেদন করেছি, আশা করছি শিগগিরই পেয়ে যাবো।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো-ভিসি প্রফেসর শরিফুল ইসলাম বলেন, বুয়েটের জন্য ঐতিহাসিক দিন, বুয়েটে প্রথম জাতীয় ল্যাবরেটরি স্থাপিত হচ্ছে। এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারে বড় সংকট রয়েছে, এই ল্যাব থেকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসবে।
প্রফেসর আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, এটা সিম্বোলিক অর্থে নয়, এটা শুধু একাডেমিক রিসার্সের জন্য নয়, এনার্জির সমস্যা নিয়ে কাজ করবে এই ল্যাব। জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চায়। আমাদের পরিবহনের যে জ্বালানি ব্যবহার হয় তার মধ্যে বড় একটি অংশ বাতাসের প্রতিকূলে চলতে গিয়ে। আমরা যদি লুকিং গ্লাসের বিকল্প তৈরি করে ফুয়েল ৫ শতাংশ কমাতে পারি সেটাও অনেক। আবার এক-তৃতীয়াংশ কৃষিপণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ধাপে সেখানেও যদি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারি, তাতেও অর্থনীতির চেহারা বদলে যেতে পারে।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান শরিফ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, অনুষ্ঠানে বিইপিআরসি কর্মকর্তাবৃন্দ, বুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।