বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

সরকারি জরুরি হটলাইন

সরকারি তথ্য ও সেবা-৩৩৩, জরুরি সেবা-৯৯৯, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে-১০৯, দুদক-১০৬, দুর্যোগের আগাম বার্তা-১০৯০, শিশুর সহায়তায় ফোন-১০৯৮, ভূমির সেবা পেতে...অভিযোগ জানাতে-১৬১২২, ই-জিপি জরুরি হেল্পলাইন-১৬৫৭৫, নৌপরিবহনের হেল্পলাইন-১৬১১৩। তথ্য সুত্র : পিআইডি

গণমাধ্যম নয়, জনগণকে সুরক্ষিত রাখতেই সাইবার সিকিউরিটি আইন

সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করবে না জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সাইবার সিকিউরিটি আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য করা হচ্ছে না; বরং বাংলাদেশের জনগণকে সাইবার জগতের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি, অপতথ্য ও গুজব থেকে নিরাপদ রাখার জন্য এই আইন করা হচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আগ্রহ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা যদি কোনো কারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, ভালো সাংবাদিকরা লেখা বন্ধ করে দিতে পারেন এবং নতুন ভালো সাংবাদিকও গড়ে উঠবে না। সে কারণে বিষয়টি প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি মিডিয়া হাউজের মালিকদেরও এসব বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে। সরকার কোনো ঘোষণা দিলেও সংশ্লিষ্ট মিডিয়া হাউজের মালিকরা যদি তা বাস্তবায়নে আন্তরিক না হন, তাহলে সেই উদ্যোগের কোনো প্রতিফলন পাওয়া যাবে না।

সাংবাদিকদের সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে এ বিষয়ে মতামত নেয়া হয়েছে, নেয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেয়া হবে। এ নিয়ে কয়েক দফা পরামর্শও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখানে মূল বিষয় হচ্ছে মানসিকতা বা মাইন্ডসেট। কোনো সরকার কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইলে তার জন্য আইন প্রয়োজন হয় না। অতীতে ১৭ বছর এমনটি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। গণমাধ্যম কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করে না, করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

তিনি বলেন, অতীতে ১৭ বছর সংবাদপত্র, সাংবাদিক ও মিডিয়া একটি জালের মধ্যে আটকে ছিল। তখন তাদের যা বলা হতো, তাই করতে হতো এবং বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার প্রশ্নই ওঠে না। বাংলাদেশের জনগণকে ‘সেফ ফিল’ করানো এবং জনগণের বাকস্বাধীনতাসহ গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা ও সব ধরনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে।

সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনটি শুধুমাত্র কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য করা হচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। জনগণকে নিরাপদ রাখার জন্যই সাইবার সিকিউরিটির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমের বিষয়ে সাংবাদিক নেতাদের একটি প্রস্তাবের কথাও তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরামর্শের পর্যায়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে, কোনো পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল বা নিবন্ধিত পোর্টালে এমন কিছু প্রকাশিত হলে, যা ভুলক্রমেও সাইবার সিকিউরিটি আইনের ব্যত্যয় ঘটায়, সেই সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকে আইনের আওতায় আনার আগে আদালতের অনুমতি নেয়ার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং এ বিষয়ে নমনীয়ভাবে দেখা হচ্ছে। কীভাবে বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং এর ভাষা বা ওয়ার্ডিং কেমন হবে, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি ও হেনস্তার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে মানুষকে হেনস্থা করা হয়। এর ফলে অনেকে হয়রানির শিকার হয়ে সুইসাইডাল পর্যায়েও চলে যান। এসব থেকে বাংলাদেশের জনগণকে নিরাপদ রাখার জন্য ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, অনেক সাংবাদিকের নামেও ভুয়া অপতথ্য ও গুজব ছড়াতে দেখা গেছে। সাংবাদিকরাও বাংলাদেশের জনগণের অংশ। তাই তাদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার জন্যও পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, যে বিষয়ে সাংবাদিক নেতারাও একমত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে সাংবাদিক নেতাদের দেয়া দাবিগুলো লিখিত আকারে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে দিলে সরকারের জন্য তা বাস্তবায়ন এবং কাজ এগিয়ে নেয়া আরও সহজ হবে। বৈঠকে তিনি সাংবাদিক নেতাদের বক্তব্য থেকে অনেক বিষয় নোট করেছেন বলেও জানান।

সংবাদ শেয়ার করুন

সতর্ক বার্তা

আমরা নিজস্ব সংবাদ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি। -ইন্দোবাংলা টীম।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা

© banglarmukhnews24.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২৬।
কারিগরি সহায়তায়: অল আইটি বিডি